আমার ফোনে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আছে । ১ মিনিট দাড়াও ভাই আমার ফোনে ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে । আরে ভাই আমার ফোনে ৬৪ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে । তোমরা সবাই থামো আমর কাছে আইফোন আছে । ভাই দেখেন এখানে সবাই মেগাপিক্সেল এর কথা বলছে কিন্তু যখন আইফোনের কথা আসলো তখন সবাই চুপ কিন্তু কেন ? আজকাল স্মার্ট ফোনে ৪৮,৬৪,এমনকি ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে কিন্তু যখন পিকচার কোয়ালিটির কথা আসে তখন দেখা যাই আইফোন ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার থেকে বেশি ভালো পিকচার দিচ্ছে । এমনকি ভাই লাখ টাকার DSLR ক্যামেরাতেও এত বেশি মেগাপিক্সেল থাকে না । একটা DSLR এ ১২,১৫,বা ২৪ মেগাপিক্সেল সেন্সর থাকে কিন্তু সেই DSLR ও ২০০ মেগাপিক্সেলের তুলোনায় ১০০ টাইম বেশি ভালো ছবি দেয় ।কিন্তু কেন এমন হয় ? কোম্পানি গুলো কি বেশি বশি মেগাপিক্সেল দেখিয়ে আমাদের বোকা বানাচ্ছে ?
আসুন জেনে নেই মেগাপিক্সেলের আসল রহস্য
আসলে মেগাপিক্সেল হলো আপনি একটা ছবি তোলার পর ছবিটা কতগুলো বিন্দু বা squar shape এ প্রকাশিত হবে তার একক। ১ মেগাপিক্সেলে ১ মিলিয়ন পিক্সেল আপনি যদি ১২ মেগাপিক্সেলের একটা ক্যামেরা দিয়ে একটা ছবি তোলেন তাহলে ছবিটি ১২ মিলিয়ন বিন্দু বা squar shape ছবিটি দেখাবে । আপনি যত বেশি মেগাপিক্সেল দিয়ে ছবি তুলবেন আপনার ছবি তত বেশি বিন্দু দিয়ে ছবি দিবে যার ফলে আপনি ছবিটি একটু বেশি জুম করতে পারবেন আপনার ছবি ফেটে যাবে না ।কোম্পানিগুলো এখানে কী করে? তারা ক্যামেরায় বেশি মেগাপিক্সেল যোগ করে আমাদের দেখায় যে এই ফোনের ক্যামেরা অনেক শক্তিশালী। কিন্তু আসল ব্যাপারটা এতটা সহজ না। ধরুন, দুটি ফোনের একটিতে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আর অন্যটিতে ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আছে। তাহলে কি ২০০ মেগাপিক্সেলের ফোনটি নিশ্চিতভাবেই ভালো ছবি তুলবে? না, মোটেওনা। কারণ একটি ছবি কতটা ভালো হবে সেটা শুধু মেগাপিক্সেলের ওপর নির্ভর করে না। এখানে আরও অনেক বিষয় কাজ করে।যেমন ক্যামেরা সেন্সরের আকার, লেন্সের মান, অ্যাপারচার, ইমেজ প্রসেসিং, HDR, নাইট মোড এবং ফোনের সফটওয়্যার।
তাহলে সেন্সরের আকার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এখানেই আসে আসল বিষয়।
ক্যামেরার সেন্সরকে আপনি এমন একটা জায়গা হিসেবে ভাবতে পারেন যেখানে আলো এসে জমা হয়। সেন্সর যত বড় হবে সাধারণত তত বেশি আলো ক্যাপচার করার সুযোগ থাকে। আর বেশি আলো মানে কম আলোতেও ছবি তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে একটি ছোট সেন্সরের ওপর যদি অনেক বেশি পিক্সেল বসানো হয় তাহলে প্রতিটি পিক্সেলের আকার ছোট হতে পারে। ফলে শুধু মেগাপিক্সেল বাড়ালেই ছবির মান একইভাবে বাড়বে এমন কোনো নিয়ম নেই। তাহলে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার লাভ কী?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেওয়া হয় কেন?
এর কিছু বাস্তব সুবিধা অবশ্যই আছে। বেশি মেগাপিক্সেলের ছবিতে অনেক বেশি ডিটেইল থাকতে পারে। বিশেষ করে ভালো আলোতে ছবি তুললে এবং পরে ছবির কোনো অংশ crop বা zoom করলে বেশি রেজোলিউশন কাজে আসতে পারে।
তবে এখানে আরেকটি বিষয় আছে। স্মার্টফোনে অনেক সময় pixel binning প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বললে ক্যামেরা একাধিক ছোট পিক্সেলের তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি বড় কার্যকর পিক্সেলের মতো ছবি তৈরি করতে পারে।
তাই ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা সবসময় ২০০ মেগাপিক্সেলে ছবি তুলছে এমনটা ভাবারও কারণ নেই। অনেক ফোন ডিফল্টভাবে কম রেজোলিউশনের ছবি তৈরি করে যাতে আলো, noise এবং overall image quality আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তাহলে ভালো ক্যামেরা চিনব কীভাবে?
শুধু ফোনের বক্সে 108MP, 200MP বা 50MP লেখা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
ফোন কেনার সময় বরং দেখুন
১।ক্যামেরার সেন্সর কতটা ভালো
২সেন্সরের আকার কেমন
৩।লেন্সের মান কেমন
৪।OIS আছে কি না
৫।HDR এবং Night Mode কেমন কাজ করে
৬।ফোনের image processing কেমন
৭।দিনের আলো এবং কম আলোতে ছবির sample কেমন
৮।ভিডিও recording কতটা ভালো
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তব ছবির sample দেখুন।কারণ কাগজে কলমে ২০০ মেগাপিক্সেল থাকা আর বাস্তবে সুন্দর ছবি তোলা এই দুটো কিন্তু এক জিনিস নয়।
তাহলে মেগাপিক্সেল কি গুরুত্বপূর্ণ?হ্যাঁ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটিই ক্যামেরার সবকিছু নয়।মেগাপিক্সেল মূলত ছবিতে কতগুলো পিক্সেল বা ডিটেইল থাকবে তার ধারণা দেয়। কিন্তু ছবির রংআলো ডায়নামিক রেঞ্জ শার্পনেস noise এবং overall quality অনেকটাই নির্ভর করে সেন্সর, লেন্স এবং ফোনের image processing এর ওপর।তাই পরেরবার কোনো ফোনে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেখে শুধু ওয়াও বলার আগে একটু থামুন। কারণ ক্যামেরার ক্ষেত্রে আসল প্রশ্ন হলোকত মেগাপিক্সেল?নয় বরং কত ভালো ছবি তুলতে পারে?এটাই হলো স্মার্টফোন ক্যামেরার মেগাপিক্সেলের আসল রহস্য।